মাতারবাড়ী সুবিধা পাবে কলকাতা-হলদিয়া বন্দর
চট্টগ্রাম ব্যুরো,বাংলাদেশ ; দেশের প্রথম গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মিত হচ্ছে কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার মাতারবাড়ীতে। ২০২৬ সালে পুরোদমে চালু হবে এই সমুদ্রবন্দরটি। কিন্তু তার আগেই সেখানে নির্মিতব্য বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য নির্মিত তিনটি জেটি এবং জাহাজ প্রবেশের জন্য ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ চ্যানেল বা পথ ডিসেম্বরের মধ্যেই বুঝে পাচ্ছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। আর ওই চ্যানেল দিয়ে ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কেন্দ্রের নির্মাণ সামগ্রী নিয়ে জানুয়ারিতে ভিড়ছে প্রথম জাহাজ।
তারপর ফিডার ভ্যাসেল বা ছোট ছোট জাহাজে পণ্য, কনটেইনার চলে আসবে চট্টগ্রাম, মোংলা, পায়রা বন্দরে। ট্রানজিট সুবিধায় ভারতের ‘ল্যান্ডলক’ এরিয়া বা সেভেন সিস্টার্স এবং নেপাল, ভুটানে চলে যাবে কনটেইনার বা আমদানি পণ্য। এখানেই শেষ নয়, সিঙ্গাপুরের চেয়ে কম দূরত্বের মধ্যে মাতারবাড়ী বন্দরের অবস্থান হওয়ায় এর সুবিধা পাবে কলকাতা ও হলদিয়া বন্দর।
সব মিলিয়ে ভৌগোলিক অবস্থানগত কারণ, সুনীল অর্থনীতির (ব্লু ইকোনমি) হাতছানি কাজে লাগানোর দূরদর্শিতার কারণে মাতারবাড়ী বন্দর হবে মেরিটাইম ওয়ার্ডের নতুন গন্তব্য।
অর্থনীতিবিদ ড. মইনুল ইসলাম বলেন, এ বন্দরটি পাঁচ-ছয় বছর পর অপারেশনে যায় তবে শুধু বাংলাদেশের তিনটি বন্দর নয়, উপকৃত হবে ভারতের সেভেন সিস্টার্স রাজ্য খ্যাত ল্যান্ডলক এরিয়া আসাম, অরুণাচল, মেঘালয়, নাগাল্যান্ড, মনিপুর, মিজোরাম ও ত্রিপুরা এমনকি নেপাল, ভুটানও। সবচেয়ে বড় কথা, সিঙ্গাপুরের চেয়ে কম দূরত্বে থাকায় প্রতিবেশী দেশ ভারতের কলকাতা ও হলদিয়া বন্দর কেন্দ্রিক ফিডার জাহাজগুলো মাতারবাড়ী বন্দর ব্যবহার করলে অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হবে।
তিনি বলেন, মাতারবাড়ী থেকে সমুদ্র ও নদীপথে চট্টগ্রাম বন্দরের এনসিটি, সিসিটি, পিসিটি, বে টার্মিনাল এবং মোংলা ও পায়রা বন্দরে ফিডার ভ্যাসেল চলাচলের অবকাঠামো তৈরিই বলা যায়। চার-পাঁচ বছরের মধ্যে মাতারবাড়ী বন্দরের সঙ্গে সড়ক, মহাসড়ক ও রেলপথে কনটেইনার-কার্গো পরিবহনের নেটওয়ার্কও হয়ে যাবে নিঃসন্দেহে।
বাংলাদেশ শিপিং এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আহসানুল হক চৌধুরী বলেন, ফিজিবিলিটি স্টাডি, প্রকল্প গ্রহণ আর বাস্তবায়ন এক কথা নয়। দীর্ঘদিন ধরে আমরা আশার বাণী শুনে আসছি। যদি মাতারবাড়ী বন্দর চালু হয় এবং মাদারভ্যাসেল ভিড়ে তাহলে এটি হবে ‘মেরিটাইম হাব’। যার সুফল শুধু বাংলাদেশের আমদানি, রফতানিকারক, সরকারই পাবে না একই সঙ্গে প্রতিবেশী দেশগুলোও লাভবান হবে। ট্রানজিট, ট্রান্সশিপমেন্টের আওতায় ভারত, নেপাল, ভুটানের কনটেইনার বা কার্গোই শুধু আসবে না মাতারবাড়ী থেকেই কলকাতা, হলদিয়াসহ কাছের বন্দরগুলোতে ফিডার সার্ভিস চালু হয়ে যাবে। প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা আয় করতে পারবে বাংলাদেশ।
২৬ কিলোমিটার রাস্তাসহ মাতারবাড়ী বন্দর নির্মাণে খরচ হবে ১৭ হাজার ৭৭৭ কোটি টাকা ব্যয় হবে। ৮ হাজার ৯৫৫ কোটি টাকা শুধু বন্দরের জন্য। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ দিচ্ছে ২ হাজার ২১৩ কোটি টাকা। চট্টগ্রাম বন্দর থেকে টাকা দেওয়া হবে জমি কেনার জন্য। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী প্রথম ধাপের জন্য ২৮৮ একর জমি অনুমোদন করেছেন।
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এসএম আবুল কালাম আজাদ বলেন, মাতারবাড়ী বন্দর চালু হলে কলকাতা, হলদিয়া বন্দরেও ফিডার সার্ভিস চালু হয়ে যাবে। কস্ট অব ডুয়িং বিজনেস বিবেচনায় এটি যুক্তিযুক্ত। পাশাপাশি ট্রানজিট, ট্রান্সশিপমেন্টের পণ্য, কনটেইনারও পরিবহন হবে মাতারবাড়ী বন্দর দিয়ে।
গত ১৬ নভেম্বর মাতারবাড়ী পোর্ট ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্টের জাপানি কনসালটেন্ট নিপ্পন কোয়েইর সঙ্গে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওইদিন থেকেই মূলত মাতারবাড়ী বন্দর উন্নয়ন প্রকল্পের মূল কার্যক্রম শুরু হয়েছে। ২০২৬ সালের মধ্যে বন্দর নির্মাণের কার্যক্রম সম্পন্নের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

Post a Comment